🏥 স্বাস্থ্য পরিকাঠামো ও শাসন
বাংলাদেশের প্রতিটি বাসিন্দার ন্যায়সঙ্গত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে একটি বিস্তৃত নেটওয়ার্ক প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।
প্রাথমিক স্তর
- কমিউনিটি ক্লিনিক
- ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র
- উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
মাধ্যমিক স্তর
- জেলা হাসপাতাল
- মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র (MCWC)
তৃতীয় স্তর
- মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
- বিশেষায়িত হাসপাতাল
- মেডিকেল ইউনিভার্সিটি
📊 গুরুত্বপূর্ণ পরিসংখ্যান
| বিষয় |
তথ্য / অনুপাত |
| স্বাস্থ্যখাতে বাজেট (২০২৫-২৬) |
৪১,৯০৮ কোটি টাকা |
| চিকিৎসক ও জনসংখ্যা অনুপাত |
১ : ১৩১৬ ১,২৩,৮৫৩ জন চিকিৎসক, ১২,৯৪০ জন দন্ত চিকিৎসক মোট ১৩৬৭৯৩ জন (২০২৬ সালে) |
| নার্স ও জনসংখ্যা অনুপাত |
১ : ১১৭২ মোট নিবন্ধিত নার্স এবং মিডওয়াইফ ১৫৩৬১৩ জন (২০২৬ সালে) |
| হাসপাতাল বেড অনুপাত |
১ : ৩,০০০ (জনসংখ্যা) |
| জনগণের নিজস্ব ব্যয় (Health Out-of-pocket) |
৯৬.৫% |
📈 স্বাস্থ্য সূচক ও জনমিতি
জনসংখ্যার উপাত্ত
মোট জনসংখ্যা: ১৮০ মিলিয়ন
দারিদ্র্য সীমার নিচে: ২৭.৯% - ২৮%
গ্রামীণ জনসংখ্যা: ৫৯% থেকে ৬৮%
স্বাস্থ্য সূচক
মাতৃমৃত্যুর হার: ১১৫ / ১০০,০০০
গড় আয়ু: ৭১ (পুরুষ), ৭৩ (মহিলা)
সম্পূর্ণ টিকাপ্রাপ্ত শিশু: ৫২%
🦠 বাংলাদেশে প্রধান স্বাস্থ্য সমস্যা
সংক্রামক রোগ
টিবি, এইচআইভি, ম্যালেরিয়া, হাম, রুবেলা এবং কুষ্ঠব্যাধি। সরকার ৯টি প্রধান রোগের বিরুদ্ধে বর্ধিত টিকাদান কর্মসূচি (EPI) সফলভাবে বাস্তবায়ন করেছে।
অসংক্রামক রোগ (NCD)
বর্তমানে মোট রোগের ৬১% হলো অসংক্রামক রোগ। এর মধ্যে রয়েছে ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ এবং ক্যান্সার।
🩸 ডায়াবেটিস ও রেটিনোপ্যাথি
বাংলাদেশ বিশ্বের শীর্ষ ১০টি ডায়াবেটিস আক্রান্ত দেশের একটি (১.৩ কোটি)।
ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের প্রায় ১/৩ অংশ (১.৮৫ মিলিয়ন) ডায়াবেটিক রেটিনা ক্ষয়ের শিকার। অল্প বয়সে রোগের সূত্রপাত এবং অসচেতনতা এর প্রধান কারণ।
🥗 স্যানিটেশন ও অপুষ্টি
বিশ্ব ব্যাংকের মতে, অপুষ্টিতে ভোগা শিশুর দিক থেকে বাংলাদেশের স্থান প্রথম সারিতে।
অপুষ্টির কারণ
- দারিদ্র্য ও অসম খাবার বিতরণ
- নিরাপদ পানীয় জলের অভাব
- বার্ষিক বন্যা ও ফসলের ক্ষতি
নির্দিষ্ট পুষ্টি সমস্যা
- প্রোটিন-শক্তি অপুষ্টি (PEM)
- রক্তাল্পতা (লোহার অভাব)
- ভিটামিন এ-এর অভাব (রাতকানা)
🤱 মা ও শিশু স্বাস্থ্য
২০১০ সালে মাতৃমৃত্যুর হার ছিল ৩৪০ জন (প্রতি ১০০,০০০ জন্মে)। বর্তমানে বৈষম্য কমলেও অর্ধেকেরও কম গর্ভবতী মা নিয়মিত গর্ভকালীন স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ করেন। বাংলাদেশে গর্ভাবস্থায় মা ও শিশুর সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে কিছু নির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে পুষ্টি, স্বাস্থ্যসেবা এবং পারিবারিক সহায়তার ওপর ভিত্তি করে নিচে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপগুলো দেওয়া হলো:
১. সরকারি বা বেসরকারি ক্লিনিকে নিবন্ধন (Registration)
- গর্ভাবস্থা নিশ্চিত হওয়ার সাথে সাথেই নিকটস্থ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র অথবা নির্ভরযোগ্য কোনো প্রাইভেট ক্লিনিকে নাম নিবন্ধন করুন। এর ফলে আপনি নিয়মিত চেকআপ এবং জরুরি প্রয়োজনে দ্রুত সাহায্য পাবেন।
২. নিয়মিত চেকআপ (ANC - Antenatal Care)
- বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, একজন গর্ভবতী মায়ের অন্তত ৮টি চেকআপ করা উচিত (আমাদের দেশে ন্যূনতম ৪টি অবশ্যই করতে হবে):
- প্রথম চেকআপ: ১৬ সপ্তাহের মধ্যে।
- দ্বিতীয় চেকআপ: ২৪-২৮ সপ্তাহের মধ্যে।
- তৃতীয় চেকআপ: ৩২ সপ্তাহের মধ্যে।
- চতুর্থ চেকআপ: ৩৬ সপ্তাহের মধ্যে।
৩. সঠিক পুষ্টি ও খাবার
- গর্ভবতী মায়ের জন্য বাড়তি খাবার প্রয়োজন।
- সুষম খাদ্য: প্রতিদিনের খাবারে ভাত, ডাল, মাছ/মাংস, ডিম এবং প্রচুর সবুজ শাকসবজি ও ফলমূল রাখুন।
- ক্যালসিয়াম ও আয়রন: ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত আয়রন, ফলিক অ্যাসিড এবং ক্যালসিয়াম বড়ি খান।
- বিশুদ্ধ পানি: দিনে অন্তত ৮-১০ গ্লাস নিরাপদ পানি পান করুন।
৪. টিকা ও ওষুধ
- টিটি (TT) টিকা: ধনুষ্টংকার রোধে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী টিটি টিকার ডোজ সম্পন্ন করুন।
- বিনা পরামর্শে ওষুধ নয়: চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ধরনের ওষুধ (এমনকি সাধারণ ব্যথানাশকও) সেবন করবেন না।
৫. বিশ্রাম ও জীবনযাপন
- বিশ্রাম: দুপুরে অন্তত ২ ঘণ্টা ঘুম বা বিশ্রাম এবং রাতে ৮ ঘণ্টা ঘুম নিশ্চিত করুন।
- ভারী কাজ: ভারী বালতি তোলা, ভারী কিছু ধাক্কা দেওয়া বা দ্রুত সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামা করা এড়িয়ে চলুন।
- মানসিক প্রশান্তি: দুশ্চিন্তামুক্ত থাকুন এবং পরিবারের সদস্যদের সাথে হাসিখুশি সময় কাটান।
৬. প্রসব পরিকল্পন (Birth Planning)
- আগে থেকেই ঠিক করে রাখা উচিত:
- প্রসব কোথায় হবে (হাসপাতাল না বাড়িতে)? হাসপাতালে হওয়া সবচেয়ে নিরাপদ।
- জরুরি প্রয়োজনে রক্ত দেওয়ার জন্য ২ জন রক্তদাতার নাম ও ফোন নম্বর।
- যাতায়াতের জন্য যানবাহনের ব্যবস্থা।
- জরুরি খরচের জন্য কিছু টাকা জমিয়ে রাখা।
⚠️ বিপদের লক্ষণ (এগুলো দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে যান):
- ১. হঠাৎ রক্তস্রাব হওয়া।
- ২. প্রচণ্ড মাথাব্যথা বা চোখে ঝাপসা দেখা।
- ৩. শরীর বা পা অতিরিক্ত ফুলে যাওয়া।
- ৪. খুব বেশি জ্বর হওয়া।
- ৫. বাচ্চার নড়াচড়া কমে যাওয়া।
একটি বিশেষ পরামর্শ: বাংলাদেশে গর্ভবতী মায়েদের জন্য সরকারি ১০৬২ (স্বাস্থ্য বাতায়ন) বা ৩৩৩ নম্বরে কল করে ২৪ ঘণ্টা ফ্রি চিকিৎসা পরামর্শ নেওয়া যায়।